Friday, 18 November 2016

তারেক রহমান জেনেটিক্যালি স্মার্ট



 ৮ মার্চ, বৃহস্পতিবার, ২০০৭ সাল, রাত প্রায় সাড়ে ১২টা, হঠাৎ টিভির দিকে চোখ পড়ল। ব্রেকিং নিউজ : তারেক রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমি তখন সাবেক জেলা দায়রা জজ রেজাউল করিম চুন্নু ও অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খানকে নিয়ে বাসার ডাইনিং টেবিলে বসে ট্যাক্স ফাইল নিয়ে কাজ করছিলাম। কিছুতেই বিষয়টা মেনে নিতে পারছিলাম না। স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তিন তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমানকে সেনাবাহিনীর হাতে বন্দী হতে হবে এ যেন কল্পনাতীত! এই তো কয়েক দিন আগের কথা, আমি তখন প্রতিমন্ত্রী। রাজধানীর এলজিইডি অডিটোরিয়ামে জনাব তারেক রহমান এদেশের প্রতিটি গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো ফল করলে উচ্চ শিক্ষার জন্য জিয়া ফাউন্ডেশন থেকে আর্থিক অনুদান বিতরণের ব্যবস্থা করেছিলেন। আমি ফান্ড রেইজিংয়ের জন্য উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মেধাবী শিক্ষার্থীদের দিকে আন্তরিকতা ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আগ্রহ সৃষ্টির জন্য আবেগাত্মক ছোট্ট একটি ভিডিও ক্লিপ তৈরি করেছিলাম। মনে পড়ে, নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে একটি ছোট্ট স্লোগান ছিল ‘Each One, Teach One’. এই পদ্ধতিতে প্রতিটি এসএসসি পরীক্ষার্থী একজন করে নিরক্ষর ব্যক্তিকে অক্ষর শিক্ষা দিতে পারলে ঐচ্ছিক নম্বর পাবে। সেটা স্মরণ রেখে আমার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল, শহীদ জিয়ার ওই স্লোগানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘Each one, sponsor one’ ধারণা তুলে ধরা। মিলনায়তনে উপস্থিত প্রায় হাজার দুয়েক গণ্যমান্য বিশিষ্টজনের প্রতিজন যদি একজন অসহায় শিক্ষার্থীর দিকে তার উদার হাত সম্প্রসারিত করেন, তবেই হবে। ভিডিও ক্লিপটি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ছিল। প্রথম দৃশ্যেই দেখা যায়, এক মহিলা বাসায় কাজ করে তার পিতৃহীন মেয়েটিকে লেখাপড়া করান, মেয়েটি এ প্লাস পেয়েছে। মঞ্চে উপবিষ্ট তারেক রহমানের সঙ্গে বসে আমি ভিডিও ক্লিপটি দেখছিলাম। প্রথম দৃশ্য দেখেই তিনি আমাকে বললেন, মিস্টার ক্লিনটন বন্ধ করুন! (তারেক ভাই আমাকে মি. ক্লিনটন বলে ডাকতেন)। ততক্ষণে শ্রোতা-দর্শকমণ্ডলীর চোখের কোণে জল। ভিডিওটি বন্ধ করার পরপরই তিনি আমাকে বললেন, উপস্থিত সবার জন্য বিষয়টি অত্যন্ত টাচই বটে কিন্তু আপনি কি মেয়েটি ও তার মা’র কথা ভেবেছেন, মেয়েটির জন্য এটা কতটা লজ্জাজনক। আমি পাথরের মতো স্তব্ধ হয়ে গেলাম। আমার নিজেকে একজন নিদারুণ বোকা বলে মনে হতে লাগল। তারেক ভাইয়ের কথাটি খুবই সত্য। তাৎপর্যময়। আমি দাঁড়িয়ে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে উপস্থিত সুধীজনের সামনে পরবর্তী ভিডিও ক্লিপ না দেখানোর কারণ ব্যাখ্যা করে মেয়েটি ও তার মা’র কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলাম। অনুষ্ঠানটি চলছিল স্বাভাবিক গতিতে।


এবার তারেক রহমানের প্রিয় বিষয় কৃষি বিপ্লব নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী। তিনি সারা দেশ ঘুরে বীজ, সার, কীটনাশকসহ কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণের কর্মসূচি হাতে নেন। বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া এলাকায় কলাগাছের ভেলায় বা কচুরিপানার উপর বাঁশের চাটি বিছিয়ে সামান্য কাদা মাটি দিয়ে কীভাবে বীজতলা তৈরি করা যায়, বন্যার পানিতে কীভাবে অল্প সময়ে উচ্চবর্ধনশীল মাছ চাষ করা যায় ইত্যাদি প্রদর্শন করা হলো। প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ বাংলাদেশ, তাই বন্যার পানিকে অভিশাপ না ভেবে গবেষণার মাধ্যমে দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে বীজ, ধান ও নানাবিধ হাইব্রিড ফসল উৎপাদন করা অর্থাৎ ‘Living with the Flood’ এর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। প্রাচ্যের উন্নত দেশগুলোর মতো এদেশে আলু ও ভুট্টার বহুবিধ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ ও চাষের অভিনব পদ্ধতি উদ্ভাবন করার ওপর জোর দেন তিনি। তাছাড়া বন্যার পর আলু, ভুট্টা, কাউন ও তিল চাষ করে একই জমিতে বহুবিধ ফলনের উপযোগীকরণ, সবজি চাষে কৃষকের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ব্যবস্থা ও কীভাবে মধ্যস্বত্বভোগীদের বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া যায় তার ওপর প্রতিবেদন দেখালেন। এর পর জিয়া ফাউন্ডেশন থেকে স্বাস্থ্যসেবায় এদেশের চিকিৎসকদের উদ্বুদ্ধকরণ ও জিয়া ফাউন্ডেশন থেকে হাসপাতাল নির্মাণ ও ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টার তৈরি করার কাজের ওপর শেষ প্রতিবেদনটি দেখালেন।

নীলফামারী জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আমি। বেলা প্রায় ১টা, সৈয়দপুর বিমানবন্দর হয়ে ঢাকায় রওনা দিব। বিমানের জন্য অপেক্ষা করছি। ফোন এলো, অপর প্রান্তে ‘ভাইয়ার’ কণ্ঠস্বর। জানতে চাইলেন কোথায়? উত্তর জেনে বললেন, গাড়িতে উঠুন, বগুড়া হয়ে ঢাকা যাবেন। ঢাকায় আমার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি জানানোর কোনো সুযোগ রইল না। সরাসরি গেলাম বগুড়া সরকারি মুজিবর রহমান মহিলা কলেজে। অভ্যর্থনার জন্য কলেজ প্রাঙ্গণে হরেক রকম ফুলের সাজে সজ্জিত সুন্দর একটি গেটের সামনে ফুল আর মালা নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন প্রিন্সিপাল, শিক্ষয়িত্রী ও বাসন্তী রংয়ের শাড়ি পরে, চুলের গোছায় বেলি ফুলের মালা গুঁজে, সাজ সাজ রবে একঝাঁক শিক্ষার্থী। গাড়ি গেটের সামনে থামল। পা বাড়াতেই ফুলের পাপড়ি ছিটাতে থাকল মহিলা কলেজের ছাত্রীরা। প্রিন্সিপাল ও কলেজের ভিপি এগিয়ে এলেন ফুলের তোড়া নিয়ে। প্রতিমন্ত্রীর পূর্ব নির্ধারিত প্রোগ্রাম না হওয়ায় বসন্তের বিকালে সাজের বন্যা দেখে জিজ্ঞাসু মন নিয়ে ফুলের তোড়া হাতে নিতেই সাজানো গেটের সাঁটানো ব্যানারের দিকে তাকিয়ে দেখলাম প্রধান অতিথি লেখা আছে- তারেক রহমান। ফুলের তোড়াটি হাতে নিয়ে অপেক্ষা করতে চাইলাম, আমার প্রিয় নেতার আগমনের জন্য। কলেজের ভিপি আমাকে বললেন, অপরিহার্য কারণে আজ ‘ভাইয়া’ এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি। আমরা দুঃখিত, সময় স্বল্পতার জন্য আপনার নামে ব্যানার করতে পারিনি। ভিতরে গিয়ে প্রথমেই ছাত্রীনিবাস, পরে কমনরুম ও লাইব্রেরির ফলক উন্মোচন করলাম। পরে মূল অনুষ্ঠান শুরু হলো। মঞ্চে বসে ছাত্রীদের বক্তব্য শুনছি আর মনে মনে ভাবছি, তারেক রহমান সত্যিই শুধু বিচক্ষণই নন, তিনি সব কাজে নিজের অবস্থান নিয়ে চিন্তাভাবনা করেন। কারণ যে ফলক আমি উন্মোচন করেছিলাম, সেখানে অতিউৎসাহী শিক্ষক ও ছাত্রীরা ফলকে উন্মোচনকারী হিসেবে তারেক রহমানের নাম লিখেছিলেন। কিন্তু তিনি কোন প্রটোকলে ফলক উন্মোচন করবেন! তাই তিনি সেখানে যাননি, আমাকে পাঠিয়েছিলেন এবং টেলিফোনে প্রিন্সিপালকে বলেছিলেন, পরে ফলকে যেন আমার নাম লেখা হয়। ছাত্রীদের মনের ইচ্ছা ছিল যার অবদানে তারা ভবন পেয়েছিল, তার স্মৃতিফলক থাকা। সন্ধ্যায় বগুড়া শহরে ছয় এমপির উপস্থিতিতে তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জিয়া ফাউন্ডেশনের একটি সভায় আমাকে উপস্থিত হতে হবে প্রধান অতিথি হিসেবে। সুসজ্জিত সভাস্থলে একের পর এক বক্তা বক্তৃতা করছিলেন। মাননীয় এক সংসদ সদস্য, প্রধান অতিথির (আমার) বক্তব্যের মাঝামাঝি সময়ে সভাস্থলে এলেন। বক্তব্য শেষে ভেবেছিলাম, দেরিতে আসা সংসদ সদস্যকে বক্তব্যদানের সুযোগ হয়তো দেওয়া হবে, কিন্তু তা হয়নি। পরে শুনেছিলাম, সেই সংসদ সদস্য বেশ ব্যথিত হয়েছিলেন বক্তব্য দিতে না পারায়। কিন্তু তারেক রহমান সভার নিয়মশৃঙ্খলার কোনো ব্যত্যয় ঘটাননি। এখানেই শেষ নয়, আমরা অতিথিরা তারেক রহমানসহ সবাই টেবিলে খাওয়ার অপেক্ষায় বসে আছি। ক্ষুধার্ত থাকার কারণে আহার্যের গন্ধে পেটের চাহিদা খানিকটা বেড়ে গেলেও খাবার আমাদের টেবিলে না এসে চলে যাচ্ছিল অতিথিদের সঙ্গে আসা গানম্যান, গাড়ির ড্রাইভারদের টেবিলে। জানতে পারলাম, তিনি সব সময় অতিথিদের সঙ্গে আসা সদস্যদের খাওয়ানোর পরে গণ্যমান্য অতিথিদের খাবার পরিবেশন করতেন।

এর পর থেকে আমিও একই পদ্ধতি অনুসরণ করছি। ১৯ জানুয়ারি, ২০০৮ সাল, সন্ধ্যা ৫টা ৫২। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের ৬নং শহীদ মইনুল রোডের বাড়ি। একটি গাড়ি থেকে নেমে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে সিঁড়ি ভেঙে বারান্দায় উঠতে যাচ্ছিলেন তারেক রহমান। বারান্দার একপাশে কফিনে তার প্রিয় নানী তৈয়বা মজুমদারের মরদেহ, নানীর আদরের ‘পিনু’ তারেক রহমান- ভুলেই গিয়েছিলেন ক্রাচে ভর দেওয়া ছাড়া তার পক্ষে সিঁড়ি ভেঙে বারান্দায় ওঠা সম্ভব নয়। আবেগাপ্লুত দৌহিত্র স্বয়ং অসুস্থ সে কথাটি বিন্দুমাত্র স্মরণ নেই। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতেই হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলেন। অদূরে দাঁড়ানো দুই সেনা কর্মকর্তা তা সহ্য করতে পারলেন না। সবার চোখকে উপেক্ষা করে চিলের মতো উড়ে এসে তারেক রহমানের হাতের দুই ডানায় ধরে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাভরে বুকে জড়িয়ে ধরে কোলে করে তুলে নিয়ে এলেন বারান্দায়। অতি আদরের পিনু নির্বাক দৃষ্টিতে আছড়ে পড়লেন নানীর কফিনের ওপর। পাশে দাঁড়ানো স্ত্রী জোবায়দা অশ্রুসজল নয়নে পিনুকে জড়িয়ে ধরে কফিন থেকে আগলে তুলতে ব্যর্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একমাত্র কন্যা জাইমা জড়িয়ে ধরল তারেক রহমানকে। অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন সবাই। স্বজনহারার আর্তনাদ ক্ষতবিক্ষত করল উপস্থিত সবার হৃদয়। বাড়ির পূর্ব পাশের লনে তারেক রহমানের অনুরোধে জানাজার ব্যবস্থা করা হলো। উপস্থিত প্রায় সবাই জানাজায় অংশগ্রহণ করলেন। কিছুক্ষণ আগেই আরাফাত রহমান কোকো এসেছিলেন। ভাগ্যের পরিহাস, প্রিয় মাতামহের জানাজা পড়ার সুযোগ হলো না। এরই মধ্যে তারেক রহমানকে নিয়ে কারারক্ষীরা প্রস্থান করল। এর পরপরই রত্নগর্ভা জননীকে দেখতে এলেন এ দেশের তিন তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্রের মানসকন্যা, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে যিনি মর্যাদা দিয়েছিলেন, সেই স্বাধীনতার ঘোষক, সেই সেক্টর কমান্ডার, সেই সেনাপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার মায়ের কফিনের পাশে এসে দাঁড়ালেন। কতই না নিষ্ঠুর, নির্দয়, ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে আজ জননীর অতি আদরের পুতুল, তার দুই সন্তান, দুই পুত্রবধূ ও নাতনিকে নিয়ে গর্ভধারিণী মা তৈয়বা মজুমদারের শেষকৃত্যে অংশ নিতে পারেননি। বেগম জিয়া পারেননি মাতৃবিয়োগের ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে পিনু আর কোকোর কাঁধে ভর দিয়ে মায়ের মরদেহ দেখতে। পিনু পারেননি তার একমাত্র মেয়ে জাইমাকে বুকে নিয়ে তার স্নেহময়ী নানুকে দেখতে, কোকো পারেননি তার প্রিয় দুই মেয়েকে নিয়ে নানুর মৃতদেহের পাশে দাঁড়াতে। কতই না নিষ্ঠুর ষড়যন্ত্র ছিল মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীন গংদের।


২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে তারেক রহমানের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় দেশের কয়েকজন প্র্রথিতযশা সাংবাদিকের সামনে তিনি বলেন, ‘আমি দেশের জন্য রাজনীতি করি। এ জন্য যদি জেলখানায় যেতে হয় যাব। আমি শহীদ জিয়াউর রহমানের ছেলে। যারা বিএনপি তথা জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরোধী, তারাই ওসব অপপ্রচার করে। আপনারা জেনে দেখুন, আমি কোনো মন্ত্রী বা কোনো সচিবকে কোনো কাজের জন্য টেলিফোন করেছি কিনা, আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি কেউ বলতে পারবেন না। আমার বিরুদ্ধে এ অপপ্রচার ষড়যন্ত্রমূলক।’ তিনি আরও বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা সবাই, দেশের মানুষও তাই চায়। কিন্তু যেভাবে কেবল বিএনপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির ঢালাও অভিযোগ এনে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তা কোনোভাবেই এ দেশের শান্তিকামী মানুষ মেনে নেবে না। কারণ বিএনপি দেশের মানুষের প্রাণের দল। এই দলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু জনগণ তার জবাব দিয়েছে। তারেক রহমানকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘আপনি কি কারাগারে যেতে প্রস্তুত?’ জবাবটা ছিল, ‘রাজনীতি করি, যদি এ জন্য জেলে যেতে হয় তাতে আক্ষেপ নেই। তবে ভিত্তিহীন কোনো অভিযোগে যদি আমাকে এমনটা করা হয় এর বিচারের ভার দেশের মানুষের কাছে থাকবে।



৩ সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সাল, ৫৪৪ দিন কারা নির্যাতিত হয়ে মুক্তি পেলেন তারেক রহমান। এটা তার জীবনের প্রথম বন্দী জীবন নয়। ১৯৭১ সালের ২ জুলাই যখন তার বয়স ছিল ৬ বছর ৭ মাস ১২ দিন, তখন সিদ্ধেশ্বরীর জনাব এস আবদুল্লাহর বাসা থেকে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে মা ও ছোট ভাই কোকোসহ বন্দী হন। ১৬৭ দিন বন্দী জীবনযাপনের পর ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর মুক্তি পান সবাই। শৈশব থেকেই তারেক রহমান স্বাধীনতা যুদ্ধ, পিতার সঙ্গে গৃহবন্দী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার বিরুদ্ধে ১৯টি ক্যুর প্রত্যক্ষদর্শী। সর্বোপরি পিতৃবিয়োগের বেদনা, মায়ের সংসার চালানোর অনটন, প্রিয় নানীর সাহচর্য, সুসময় ও দুঃসময়ের মধ্যেই বেড়ে ওঠেন তারেক রহমান। ছোটবেলা থেকেই পিতার দেশাত্মবোধ, বড় হয়ে মায়ের সঙ্গে ক্ষয়ে যাওয়া জাতীয়তাবাদী দলকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং মায়ের পাঁচবার গ্রেফতার হওয়া। এ সবই ছিল নিয়তির বিধান।

মনে মনে ভাবলাম, তাই তো ১/১১’র ষড়যন্ত্রকারীরা ধ্বংস করতে চায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বাংলাদেশের কাণ্ডারি তৃণমূল থেকে উঠে আসা তারুণ্যের অহঙ্কার তারেক রহমানকে। যার পিতা নিজ গুণে স্বাধীনতার ঘোষক হয়ে দেশের চরম দুর্দিনে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে সফল রাষ্ট্রনায়ক হয়ে শাহাদাতবরণ করেন, যার মা নাবালক দুটি সন্তানকে কোলে-পিঠে করে মানুষ করতে করতে ভঙ্গুর জাতীয়তাবাদী দলের কাণ্ডারি হয়ে তিন তিনবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তাদেরই রক্ত ধাবমান তারেক রহমানের শিরা-উপশিরায়। সে জন্যই তারেক রহমান হলেন জেনেটিক্যালি স্মার্ট।

লেখক : আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলন, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক।

Saturday, 29 October 2016

Book: Chalte Firte Dekha (চলতে ফিরতে দেখা)

Chalte Firte Dekha is a collection of columns published in various popular dailies by A.N.M. Ehsanul Hoque Milan, Former State Minister for Education. This book was first published in 2014 by Shajji Prokasani.

                                                                       Cover Page


                                                                               Back Page

You can buy the book at home by:

                                                    Call: +8801551952171-5
                                                    Log in: www.rokomari.com

Friday, 28 October 2016

Ehsanul Hoque Milan at BBC Bangladesh Sanglap (Dialogue), Dhaka, 07 Nov 2009, Episode 31




A.N.M. Ehsanul Hoque Milan - Former State Minister for Education and International Affairs Secretary of Bangladesh Nationalist Party (BNP) took part in BBC Bangladesh Sanglap (Dialogue) held in Dhaka on 07 Nov 2009.

Other Panelists :

Dr Abdur Razzak - Food and Disaster Management Minister; Agriculture and Cooperative Affairs Secretary of Awami League,
Dr Muntasir Mamun - Professor of History at Dhaka University and
Salma Khan - President of Women for Women, a non-governmental organisation.

You can watch from Youtube:   https://www.youtube.com/watch?v=xJzDu28CTLI

Flashback 2004: Govt to set up polytech instt in each dist: Milan

Govt to set up polytech instt in each dist, Milon tells seminar 







The government has taken up steps to set up polytechnic institute in every district to improve technical education.Besides, a number of initiatives have been taken up for the development of IT education in the country. This was stated by State Minister for Education ANM Ehsanul Haque Milon as chief guest at a seminar in the city yesterday.

The seminar on 'The role of the private initiative in polytechnic education' was organised by the Bangladesh Association of Private Polytechnic Institute (BAPPI) at the National Press Club.

The state minister said there is a huge shortage of instructors for technical and computer education at school and college level in the country. The government should take initiative to bring back students who go abroad for higher education to overcome the shortage of teachers, he added.Milon said the government will do everything necessary to encourage private entrepreneurs to ensure standard technical education.

Shahidul Islam Chowdhury, president of the association, presented a paper on 'Private polytechnic education' at the seminar. He said a total of 65 private polytechnic institutes are now providing diploma to 4,790 students in engineering and computer science across the country.

Other speakers at the seminar said diploma engineers could earn crores of taka in foreign exchange if intentional standard of education could be provided to them. They said for this upgrading of text curriculums, modernisation of the examination system, practical training of students and training facilities for teachers are needed.

Chairman of Bangladesh Technical Education Board Prof M Idris Ali, Director General of technical education Prof M Abul Basar, and General Secretary of the National Press Club Shawkat Mahmud also spoke at the seminar.

 Source: Mon, June 14, 2004, The Daily Star Web Edition http://archive.thedailystar.net/2004/06/14/d40614100181.htm) 

An Exclusive Interview 0f Ehsanul Hoque Milan, Former State Minister for Education

Mr A.N.M. Ehsanul Hoque Milan is a seasoned Politician, Educationist and Public Representative.  His interview (arranged by www.eurobdnewsonline.com) hosted by Shaifur Rahman Sagar. In this interview, Honorable Ex-minister  has disclosed wholeheartedly many memorable stories of his eventful  glorious life and especially his memory of 5 years while he was State Minister for Education of Bangladesh Government from 2001 to 2006.




For listening the interview, please visit: http://www.dailymotion.com/video/x16f2xm_exclusive-interview-of-former-state-minister-ehsanul-haque-milon-with-shaifur-rahman-sagar-bywww-eur_people

A.N.M. Ehsanul Hoque Milan: At a Glance







EDUCATION:
2015-Present: PhD Researcher (Political science), International Islamic University Malaysia,

Title of PhD thesis: Human Capital Development (HCD) in Bangladesh:  A Case Study of Technical and Vocational Education and Training (TVET) 

1990: MBA (Major in Marketing), New York Institute of Technology, New York.

1981: BSc (Hons), Major in Chemistry and minor in Physics and Mathematics, University of Dhaka, Bangladesh.  

1975: Higher secondary (Science), Government Intermediate Technical College (at present Government Science College), Dhaka, Bangladesh.

1972: Secondary (Science), Sher-e-Bangla Nagar Government Boys' High School, Dhaka, Bangladesh

PUBLICATIONS:

Jubonayok Zia (Bengali book) [Golden Era of President Zia] , Shahji Publishers, Dhaka: 2012 
Chalte Firte Dekha (Bengali book), Shahji Publishers, Dhaka: November 2014 [anthology of published articles in the national newspapers on current political issues]
 Also published a large number of columns in various newspapers

BOOK FEATURING ON MY MOVEMENT:

Nokol Protirodh: Ehsanul Hoque Milan-er Songram (Bengali book) [Eradicating Unfair Means from Public Exam: the Struggle of Ehsanul Hoque Milan] , Edited by Nazmun Nahar Baby, Shahji Publishers, Dhaka: 26 March 2015

DISTINGUISH ACCOMPLISHMENT:
  • An honorary doctorate degree from British European University, London & the UK Commission for Consistent Learning for my outstanding contributions to the education sector of Bangladesh, 2005;

OCCUPATION:

Chemist, Super Farm Pharmaceutical Industry, Central Islip, Long Island, New York, 1982-83; Adjunct Lecturer Chemistry, Borough of Manhattan Community College & Tutor, Mathematics, Brooklyn College, CUNY, New York, 1984-86; Treasurer, 1987-89, Comptroller, 1989-90, Vice-President, 1991-95, Cloverdale Inc., Brooklyn, New York.

OTHER POSITIONS HELD:
  • 2001-2006, State Minister for Education, the Government of Bangladesh    
  • 2001-2006, Member of Parliament (MP), Constituency 260:Chadpur-1( Kachua), Bangladesh Nationalist Party(BNP) 
  • 1996-2001, Member of Parliament (MP), Constituency 260:Chadpur-1( Kachua), Bangladesh Nationalist Party(BNP) 
  • 1993-present, International Affairs Secretary, Bangladesh Nationalist Party(BNP)
  • 1990-1996, Secretary, BNP-USA Chapter
  • 1988, Founder Convener, BNP-USA Chapter
  • 1982, Treasurer, Central Committee, JCD
  • 1980, Youngest Member, Convening Committee, Jatiotabadi Chatra Dal (JCD) [Student wing of Bangladesh Nationalist Party, BNP].
  • 1980 to 1981 & 1981 to 1982, twice elected vice-president (VP), Fazlul Huq Muslim Hall Student Union, University of Dhaka
  • 1978-79: Athlete secretary, Fazlul Huq Muslim Hall Student Union, University of Dhaka
  • Player, Bangladesh national volleyball team


PERSONAL INFORMATION:
  • Born on: January 01, 1957
  • Place of Birth: Comilla, Bangladesh
  • Father: Late Mohammad Obaidul Hoque 
  • Mother: Mrs. Mahmuda Hoque 
  • Wife: Mrs. Nazmun Nahar Baby. She graduated from the department of zoology, Dhaka University and achieved Master in Computer Information Science (CIS) from the City University of New York .She is currently the vice-president of the central committee of Bangladesh Jatiotabadi Mohila Dal.
  • Children: Only daughter Tanjeeda Nahar Hoque.  Currently she is studying ‘International Criminal Law’ at John Jay College of Criminal Justice, CUNY, New York.